রোজ ভোরবেলা ঘুম ভেঙে যায় আমার- সে যত রাতেই ঘুমোই না কেন? রাতে অনেকদিন ঘুম আসে না। তখন তোমার অনুমোদন নিয়ে ঘুমোই আর দুচোখ জুড়ে আসে। তুমি বোধহয় জাদু জানো। ভোরে ঘুম থেকে উঠে আধো-ঘুমে আধো জাগরণে শুয়ে থাকি অনেকক্ষণ। কত কি মনে আসে। ফেলে আসা জীবনের ছেঁড়া উড়ো স্মৃতির রেণুকণা, দু’একটি পাপড়ি। সে সব দিয়ে মালা গাঁথতে পারবে না। পাপড়ি দিয়ে কি মালা গাঁথা যায়? তার মধ্যেই আমি তো মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো কলম-পেষা মজুর। আজকের দিনে কি কাজ করব- তার একটা আবছা হিসেব থাকে। হিসেবের হেরফের কিন্তু প্রায়ই হয়। সেটা আবার আমার খারাপ লাগে না। ঘরের মুক্তি কিসে?- জানালায়। দরোজায়। আমার মুক্তি ঐ যে হলুদ রোদের ঝলক দেখছি দেয়ালে ঐ অধরা সোনায় সোনায়, ঐ কৃষ্ণচূড়ায় - জারুলে - সোনালুতে - বোগেনভিলিয়ায়, গাছের পাতার রঙ পরিবর্তনে, ঘাসের শ্যামলে, কোনো কোনো হৃদয়ের অন্দরমহলে। করিডোরে এসে রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে থাকি। ভোরবেলায় অপরূপ হাওয়া এসে গায়ে লাগে তার সমস্ত মাধুরী নিয়ে। স্নাত হয়ে যায় শরীরাত্মা। আর গভীর করে দেখি দু’একটি উড়ে আসা পাখি। আজ দেখছিলাম একটি শালিক পাখি- কালো বা খয়েরি রঙের মধ্যে যেন মোটা ব্রাশে টানে শাদা রেখা। কী যে অদ্ভুত সুন্দর! আজ যে জন্যে তোমাকে এই চিঠি লিখছি, তা নিষ্কারণে নয়। সেই প্রসঙ্গেই আসি সরাসরি।
Showing posts with label আবদুল মান্নান সৈয়দ. Show all posts
Showing posts with label আবদুল মান্নান সৈয়দ. Show all posts
Thursday, May 20, 2010
বাংলার নবজাগরণের পরম্পরা: নারী জাগৃতির পটভূমিকায় - আবদুল মান্নান সৈয়দ
রোজ ভোরবেলা ঘুম ভেঙে যায় আমার- সে যত রাতেই ঘুমোই না কেন? রাতে অনেকদিন ঘুম আসে না। তখন তোমার অনুমোদন নিয়ে ঘুমোই আর দুচোখ জুড়ে আসে। তুমি বোধহয় জাদু জানো। ভোরে ঘুম থেকে উঠে আধো-ঘুমে আধো জাগরণে শুয়ে থাকি অনেকক্ষণ। কত কি মনে আসে। ফেলে আসা জীবনের ছেঁড়া উড়ো স্মৃতির রেণুকণা, দু’একটি পাপড়ি। সে সব দিয়ে মালা গাঁথতে পারবে না। পাপড়ি দিয়ে কি মালা গাঁথা যায়? তার মধ্যেই আমি তো মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো কলম-পেষা মজুর। আজকের দিনে কি কাজ করব- তার একটা আবছা হিসেব থাকে। হিসেবের হেরফের কিন্তু প্রায়ই হয়। সেটা আবার আমার খারাপ লাগে না। ঘরের মুক্তি কিসে?- জানালায়। দরোজায়। আমার মুক্তি ঐ যে হলুদ রোদের ঝলক দেখছি দেয়ালে ঐ অধরা সোনায় সোনায়, ঐ কৃষ্ণচূড়ায় - জারুলে - সোনালুতে - বোগেনভিলিয়ায়, গাছের পাতার রঙ পরিবর্তনে, ঘাসের শ্যামলে, কোনো কোনো হৃদয়ের অন্দরমহলে। করিডোরে এসে রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে থাকি। ভোরবেলায় অপরূপ হাওয়া এসে গায়ে লাগে তার সমস্ত মাধুরী নিয়ে। স্নাত হয়ে যায় শরীরাত্মা। আর গভীর করে দেখি দু’একটি উড়ে আসা পাখি। আজ দেখছিলাম একটি শালিক পাখি- কালো বা খয়েরি রঙের মধ্যে যেন মোটা ব্রাশে টানে শাদা রেখা। কী যে অদ্ভুত সুন্দর! আজ যে জন্যে তোমাকে এই চিঠি লিখছি, তা নিষ্কারণে নয়। সেই প্রসঙ্গেই আসি সরাসরি।
Subscribe to:
Posts (Atom)